১০:২৬:২৬ সারের ব্যবহার

১০:২৬:২৬ (NPK) সার কোনো নির্দিষ্ট একদিনে আবিষ্কৃত হয়নি। যৌগিক NPK সার তৈরির প্রযুক্তি মূলত ২০শ শতকের মাঝামাঝি, বিশেষ করে ১৯৫০–৬০ দশকে শিল্প পর্যায়ে বিকশিত হয়। পরে বিভিন্ন দেশের মাটি ও ফসলের পুষ্টি চাহিদা অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন অনুপাতের NPK সার তৈরি করা হয়। সেই প্রক্রিয়ায় ১০:২৬:২৬ অনুপাতের সার চালু হয়। বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ায় এই সারটি কৃষিতে ব্যাপকভাবে ব্যবহার শুরু হয় ১৯৭০–৮০ দশকে।রাসায়নিক নাম:- ১০:২৬:২৬ সারের কোনো একক

রাসায়নিক নাম:- ১০:২৬:২৬ সারের কোনো একক নির্দিষ্ট রাসায়নিক নাম নেই, কারণ এটি একটি যৌগিক (Compound) NPK সার। এর রাসায়নিক পরিচয় হলো নাইট্রোজেন (N), ফসফরাস (P₂O₅) ও পটাশিয়াম (K₂O)-এর নির্দিষ্ট অনুপাতে তৈরি সার। সাধারণত এতে নাইট্রোজেনের উৎস হিসেবে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট বা ইউরিয়া, ফসফরাসের উৎস হিসেবে ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট (DAP) বা ফসফরিক অ্যাসিড, এবং পটাশিয়ামের উৎস হিসেবে মিউরিয়েট অব পটাশ (পটাশিয়াম ক্লোরাইড) ব্যবহৃত হয়। তাই ১০:২৬:২৬ সারকে রাসায়নিকভাবে NPK যৌগিক সার বলা হয়।ধর্ম:- ১০:২৬:২৬ সার একটি যৌগিক (Compound) NPK সার। এর প্রধান ধর্ম হলো এতে নাইট্রোজেন ১০%, ফসফরাস ২৬% (P₂O₅) ও পটাশিয়াম ২৬% (K₂O) থাকে। এটি সাধারণত দানাদার, জলে সহজে দ্রবণীয় এবং মাটিতে দ্রুত কাজ করে। ফসফরাস ও পটাশের মাত্রা বেশি হওয়ায় এটি শিকড়ের বৃদ্ধি, ফুল ও ফল ধারণ এবং গাছের শক্তি বাড়াতে সহায়তা করে। এই সার মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে, গাছের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নত করে এবং ফলনের গুণগত মান বৃদ্ধি করে।বিষাক্ততা:- ১০:২৬:২৬ (NPK) সার সাধারণ ব্যবহারে তীব্রভাবে বিষাক্ত নয়, তবে অতিরিক্ত বা ভুল ব্যবহারে ক্ষতিকর প্রভাব দেখা দিতে পারে। এ সারে থাকা নাইট্রোজেন, ফসফরাস ও পটাশিয়াম উদ্ভিদের জন্য প্রয়োজনীয় হলেও বেশি মাত্রায় প্রয়োগ করলে মাটির স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং গাছের শিকড় পুড়ে যেতে পারে। অতিরিক্ত নাইট্রোজেন ভূগর্ভস্থ জলে নাইট্রেট দূষণ ঘটাতে পারে, যা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। ফসফরাস বেশি হলে জলাশয়ে ইউট্রোফিকেশন সৃষ্টি করে, ফলে মাছ ও জলজ প্রাণীর ক্ষতি হয়। সারটির ধুলো বা দানা চোখ, ত্বক ও শ্বাসনালিতে জ্বালা সৃষ্টি করতে পারে। তাই নির্ধারিত মাত্রা অনুযায়ী ব্যবহার, সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং শিশু ও খাদ্যদ্রব্য থেকে দূরে রাখা জরুরি।কার্যকরিতা:- ১০:২৬:২৬ (NPK) সারের কার্যকারিতা হলো উদ্ভিদকে সুষম ও দ্রুত পুষ্টি সরবরাহ করা। এতে নাইট্রোজেন গাছের সবুজ বৃদ্ধি ও পাতার উন্নতিতে সহায়তা করে। ফসফরাস শিকড়ের শক্ত বৃদ্ধি, ফুল ও ফল ধারণ বাড়ায়। পটাশিয়াম গাছের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং ফলের আকার ও গুণগত মান উন্নত করে। ফসলে খাদ্য সঞ্চয় ও জল ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই সার বিশেষভাবে শাকসবজি, ডাল, তেলবীজ ও ফল জাতীয় ফসলে ফলন বৃদ্ধি ও উৎপাদনের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে কার্যকর।উপকারিতা:- ১০:২৬:২৬ (NPK) সারের উপকারিতা হলো উদ্ভিদকে সুষম পুষ্টি সরবরাহ করে দ্রুত ও সুস্থ বৃদ্ধি নিশ্চিত করা। এতে থাকা নাইট্রোজেন গাছের পাতা ও কাণ্ডের বৃদ্ধি বাড়ায়। ফসফরাস শিকড়ের বিকাশ, ফুল ও ফল ধরতে সহায়তা করে। পটাশিয়াম গাছের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং খরা ও প্রতিকূল পরিবেশ সহনশীলতা বাড়ায়। এই সার ফসলের ফলন বৃদ্ধি করে, ফল ও বীজের গুণগত মান উন্নত করে এবং মাটির উর্বরতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। বিভিন্ন ধরনের ফসলের জন্য এটি কার্যকর ও বহুল ব্যবহৃত।অপকারিতা:- ১০:২৬:২৬ (NPK) সারের অপকারিতা মূলত অতিরিক্ত বা ভুল ব্যবহারের কারণে দেখা দেয়। বেশি মাত্রায় প্রয়োগ করলে মাটির স্বাভাবিক পুষ্টি ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং শিকড় পুড়ে গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অতিরিক্ত নাইট্রোজেন ভূগর্ভস্থ পানিতে নাইট্রেট দূষণ ঘটায়, যা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। ফসফরাস বেশি হলে জলাশয়ে শৈবাল বৃদ্ধির মাধ্যমে পরিবেশ দূষণ হয়। দীর্ঘদিন একটানা ব্যবহারে মাটির জৈব পদার্থ কমে যেতে পারে। সঠিক মাত্রা ও সময় না মানলে ফলনের বদলে ক্ষতির আশঙ্কা থাকে।ফসল:- ১০:২৬:২৬ (NPK) সার মূলত ফসফরাস ও পটাশের চাহিদা বেশি এমন ফসলে ব্যবহার করা হয়। এটি ধান (বিশেষ করে বোরো ও রোপা আমন), গম ও ভুট্টার জমিতে ভিত্তি সার হিসেবে উপযোগী। ডালজাতীয় ফসল যেমন মসুর, মুগ, মাসকলাই ও ছোলায় শিকড় ও ফুল গঠনে এটি কার্যকর। তেলবীজ ফসল যেমন সরিষা, তিল ও সয়াবিনে ফলন বাড়াতে ব্যবহৃত হয়। শাকসবজি যেমন আলু, টমেটো, বেগুন, ফুলকপি, বাঁধাকপি ও পেঁয়াজে এই সার ভালো ফল দেয়। এছাড়া আখ, তুলা ও বিভিন্ন ফলজ গাছের (আম, কলা, পেঁপে, আনারস) প্রাথমিক বৃদ্ধি ও ফল ধরার সময় এটি ব্যবহার করা হয়। মাটি ও ফসলভেদে সঠিক মাত্রা মেনে ব্যবহার করা জরুরি।নথিভুক্ত ফর্মুলেশান:- ১০:২৬:২৬ সারের ফর্মুলেশন (NPK):এই সারে নাইট্রোজেন (N) ১০%, ফসফরাস (P₂O₅) ২৬% এবং পটাশ (K₂O) ২৬% থাকে। সাধারণত নাইট্রোজেনের জন্য ইউরিয়া বা অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট, ফসফরাসের জন্য ডিএপি/এমএপি বা ফসফরিক উৎস এবং পটাশের জন্য মিউরিয়েট অব পটাশ (MOP) ব্যবহৃত হয়। এটি ফুল ও ফল ধরার পর্যায়ে বিশেষভাবে উপযোগী, কারণ উচ্চ ফসফরাস ও পটাশ শিকড় মজবুত করে, ফুল-ফল বৃদ্ধি ও গুণগত মান উন্নত করে। মাটি পরীক্ষার ভিত্তিতে প্রয়োগ করা উত্তম।মাত্রা:- ১০:২৬:২৬ (NPK) সারের মাত্রা:১০:২৬:২৬ সার সাধারণত ফুল ও ফল ধরার পর্যায়ে ব্যবহার করা হয়। সবজি ও মাঠ ফসলে একরপ্রতি ১০–১৫ কেজি অথবা হেক্টরপ্রতি ২৫–৩৫ কেজি প্রয়োগ করা যায়। ফল গাছে গাছের বয়স ও আকার অনুযায়ী প্রতি গাছে ২০০–৫০০ গ্রাম পর্যন্ত ব্যবহার করা হয়। জলে দ্রবণীয় হলে প্রতি লিটার জলে ২–৩ গ্রাম হারে স্প্রে বা ড্রিপ সেচে দেওয়া যায়। মাটি পরীক্ষার ফল, ফসলের ধরন ও বৃদ্ধির অবস্থার ওপর মাত্রা নির্ভর করে। অতিরিক্ত ব্যবহার ক্ষতিকর হতে পারে।বাণিজ্যিক নাম :- ১০:২৬:২৬ (NPK) সার১০:২৬:২৬ অনুপাতের সার বিভিন্ন কোম্পানি ভিন্ন ভিন্ন বাণিজ্যিক নামে বাজারজাত করে। সাধারণভাবে এটি NPK 10-26-26, Complex Fertilizer 10:26:26, Suphala 10:26:26, IFFCO NPK 10:26:26, KRIBHCO NPK 10:26:26, Tata Paras 10:26:26 ইত্যাদি নামে পরিচিত। কিছু ক্ষেত্রে Water Soluble NPK 10:26:26 নামেও বিক্রি হয়, যা স্প্রে ও ড্রিপ সেচে ব্যবহৃত হয়। অঞ্চল ও প্রস্তুতকারকভেদে নাম ভিন্ন হতে পারে, তবে পুষ্টি অনুপাত একই

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top